জামি’আতুল আবরার ঢাকা । কোড- 78
জ্ঞানই মানুষের প্রকৃত অলংকার। আর সেই জ্ঞান যদি হয় দ্বীনের আলো ও দুনিয়ার প্রজ্ঞার সমন্বয়ে সমৃদ্ধ, তবে সেই মানুষই হয়ে ওঠে জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। ইসলাম কখনো মানুষকে কেবল মসজিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে শেখায়নি; বরং কুরআনের প্রথম আহ্বানই ছিল, "পড়ো!"। এই "পড়ো" শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে মানবজীবনের পূর্ণাঙ্গ শি...
জ্ঞানই মানুষের প্রকৃত অলংকার। আর সেই জ্ঞান যদি হয় দ্বীনের আলো ও দুনিয়ার প্রজ্ঞার সমন্বয়ে সমৃদ্ধ, তবে সেই মানুষই হয়ে ওঠে জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। ইসলাম কখনো মানুষকে কেবল মসজিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে শেখায়নি; বরং কুরআনের প্রথম আহ্বানই ছিল, "পড়ো!"। এই "পড়ো" শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে মানবজীবনের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা, যেখানে দ্বীন ও দুনিয়া একে অপরের পরিপূরক। আজকের পৃথিবীতে মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন এমন এক প্রজন্ম, যারা এক হাতে ধারণ করবে কুরআন-সুন্নাহর পবিত্র জ্ঞান, আর অন্য হাতে পরিচালনা করবে আধুনিক বিশ্বের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সভ্যতার অগ্রযাত্রা। আমরা চাই এমন তরুণ, যে মসজিদের মিম্বারে দাঁড়িয়ে হক কথা বলবে, আবার হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারেও মানবসেবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। আমরা চাই এমন একজন হাফেজ, যে একই সাথে একজন দক্ষ ডাক্তার; এমন একজন মাওলানা ও মুফতী, যিনি আবার আধুনিক প্রযুক্তিতে পারদর্শী একজন ইঞ্জিনিয়ার। এই মহান স্বপ্ন নিয়েই অগ্রসর হচ্ছে জামি'আতুল আবরার । এটি কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; বরং এটি একটি স্বপ্নের কারিগর, একটি আদর্শ প্রজন্ম গড়ার দীপ্ত প্রত্যয়। এখানে একজন শিক্ষার্থী কওমি ও মাদানি সিলেবাসের গভীর ইলম অর্জনের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার ধারায়ও সমানভাবে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ পায়। সম্পূর্ণ তত্ত্বাবধানে মাত্র ৯ বছরের মধ্যেই একজন ছাত্র দাওরায়ে হাদীস সম্পন্ন করার পাশাপাশি এইচএসসি শিক্ষা সমাপ্ত করতে সক্ষম হয়। ফলে তার সামনে উন্মুক্ত হয় দ্বীনি ও আধুনিক— উভয় শিক্ষার সুবিশাল দিগন্ত। দ্বীনি উচ্চশিক্ষার জন্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠান যেমন ও -এ অধ্যয়নের সুযোগ তৈরি করা হয়। একই সাথে জেনারেল শিক্ষার অঙ্গনেও তারা এগিয়ে যেতে পারে দেশের সেরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে, যেমন সহ অন্যান্য খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমাদের লক্ষ্য কেবল সনদ প্রদান নয়; বরং এমন আলোকিত মানুষ তৈরি করা, যারা হবে আখলাকে সুন্দর, চিন্তায় আধুনিক, ঈমানে দৃঢ় এবং মানবসেবায় নিবেদিত। এমন প্রজন্ম, যারা দ্বীনের খেদমত করবে, দেশের নেতৃত্ব দেবে এবং বিশ্বমঞ্চে ইসলামের সৌন্দর্যকে জ্ঞানের মাধ্যমে তুলে ধরবে। একটি আদর্শ সমাজ গঠনের জন্য যেমন প্রয়োজন আলেম, তেমনি প্রয়োজন সৎ ডাক্তার, ন্যায়পরায়ণ বিচারক, দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার ও মানবিক শিক্ষাবিদ। আর সেই পূর্ণাঙ্গ মানুষ তৈরির এক অনন্য মিশন নিয়েই পথ চলছে জামি'আতুল আবরার— যেখানে দ্বীনের আলো ও দুনিয়ার জ্ঞান মিলেমিশে নির্মাণ করছে আগামী দিনের নেতৃত্ব। রব্বে কারীম আমাদেরকে কবুল করুক। আমীন। মুফতী আবুল হাসান দা. বা. প্রিন্সিপাল, জামি'আতুল আবরার
বর্তমান বিশ্বে শিক্ষা শুধু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং দায়িত্বশীল, নৈতিক ও আদর্শ নাগরিক তৈরির ভিত্তি। সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আইডিয়াল ইসলামিক পাবলিক স্কুল আধুনিক শিক্ষা ও ইসলামিক মূল্যবোধের সুশৃঙ্খল সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি, চারিত্রিক উৎকর্ষতা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও নেতৃত্বগুণ অর্জনে সহায়তা করে। পাশাপাশি পবিত্র কুরআনের শিক্ষা, নৈতিক প্রশিক্ষণ ও সঠিক সংস্কৃতির চর্চা শিক্ষার্থীদের একটি আলোকিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এই গ্রন্থ/বার্ষিকী/প্রকাশনার (যে উদ্দেশ্যে ব্যবহার হবে) মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষা-কার্যক্রম, অর্জন, সাফল্য ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়েছে। আশা করি, এই প্রচেষ্টা পাঠক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে জ্ঞান, অনুপ্রেরণা ও ইতিবাচক চিন্তার দ্বার উন্মোচন করবে।
ইলমে দ্বীন ও আধুনিক প্রযুক্তি : সময়ের অপরিহার্য সমন্বয় মানবজাতির ইতিহাসে এমন কিছু সময় আসে, যখন একটি জাতিকে নতুন করে নিজের অবস্থান চিনে নিতে হয়। আজ মুসলিম উম্মাহ ঠিক তেমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে দ্বীনি জ্ঞানের অবহেলা, অন্যদিকে প্রযুক্তিগত দুর্বলতা—এই দুই সংকট আমাদেরকে বিশ্বসভায় পিছিয়ে দি...
ইলমে দ্বীন ও আধুনিক প্রযুক্তি : সময়ের অপরিহার্য সমন্বয় মানবজাতির ইতিহাসে এমন কিছু সময় আসে, যখন একটি জাতিকে নতুন করে নিজের অবস্থান চিনে নিতে হয়। আজ মুসলিম উম্মাহ ঠিক তেমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে দ্বীনি জ্ঞানের অবহেলা, অন্যদিকে প্রযুক্তিগত দুর্বলতা—এই দুই সংকট আমাদেরকে বিশ্বসভায় পিছিয়ে দিয়েছে। অথচ ইসলাম এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যা মানুষকে শুধু মসজিদের ইবাদতে সীমাবদ্ধ রাখে না; বরং জ্ঞান, সভ্যতা, বিজ্ঞান, নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও মানবকল্যাণের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোর দিকনির্দেশনা দেয়। পবিত্র কুরআনের প্রথম নির্দেশই ছিল— “اقْرَأْ” — “পড়ো”। এই একটি শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে জ্ঞানের বিপ্লব, সভ্যতার উত্থান এবং মানবতার মুক্তির চাবিকাঠি। ইসলাম কখনো অজ্ঞতা পছন্দ করে না। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ।” এই জ্ঞান শুধু ফিকহ, হাদীস বা তাফসীরেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এমন সকল উপকারী জ্ঞান, যা মানবতার কল্যাণে আসে, জাতিকে শক্তিশালী করে এবং সত্য প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করে—সবই ইসলামের দৃষ্টিতে মর্যাদাপূর্ণ ইলম। একসময় মুসলমানরাই ছিল বিশ্বের জ্ঞানের আলোকবর্তিকা। গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, চিকিৎসাশাস্ত্র, স্থাপত্য, প্রযুক্তি—সবখানেই মুসলিম মনীষীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। পৃথিবী যখন অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, তখন মুসলমানদের জ্ঞানচর্চার আলো ইউরোপকে জাগ্রত করেছিল। কিন্তু আজ বাস্তবতা ভিন্ন। আমরা ভোগ করছি প্রযুক্তিগত নির্ভরতা, অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং নেতৃত্বহীনতার যন্ত্রণা। কারণ আমরা দ্বীন ও দুনিয়ার জ্ঞানকে আলাদা করে ফেলেছি। বর্তমান যুগ হলো প্রযুক্তির যুগ। আজকের পৃথিবীতে যার হাতে প্রযুক্তি, তথ্য ও দক্ষতা আছে—নেতৃত্বও তার হাতেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার প্রযুক্তি, মেডিকেল সায়েন্স, গবেষণা, মিডিয়া, সফটওয়্যার, অর্থনীতি—এসব ক্ষেত্র এখন বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করছে। যদি মুসলিম তরুণরা এসব বিষয়ে দক্ষ না হয়, তবে অন্যরা শুধু আমাদের অর্থনীতি নয়, আমাদের চিন্তাধারা ও সংস্কৃতিকেও নিয়ন্ত্রণ করবে। তাই আজ প্রয়োজন এমন এক প্রজন্ম, যারা হবে— কুরআনের হাফেজ, আবার প্রযুক্তিতেও দক্ষ। হাদীসের আলেম, আবার আধুনিক গবেষণায় পারদর্শী। মুফতী, আবার দক্ষ প্রোগ্রামার। দাঈ, আবার বিশ্বমানের বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ। কারণ একজন মুমিন দুর্বল হতে পারে না। ইসলাম শক্তিশালী উম্মাহ গঠনের শিক্ষা দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “তোমরা তাদের মোকাবিলার জন্য যথাসাধ্য শক্তি প্রস্তুত কর।” আজকের যুগে সেই “শক্তি” শুধু অস্ত্র নয়; বরং জ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, মিডিয়া ও নেতৃত্বের শক্তি। মুসলিম উম্মাহ আজ বিশ্বের নানা প্রান্তে জুলুম-নির্যাতনের শিকার। কোথাও যুদ্ধ, কোথাও দারিদ্র্য, কোথাও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, কোথাও ইসলামবিদ্বেষ। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শুধু আবেগ নয়, প্রয়োজন যোগ্য নেতৃত্ব। এমন নেতৃত্ব, যারা আল্লাহভীরু হবে, আবার বিশ্বব্যবস্থা বুঝবে; দ্বীনের গভীর জ্ঞান রাখবে, আবার আধুনিক কূটনীতি ও প্রযুক্তিতেও পারদর্শী হবে। আজকের ছাত্ররাই আগামী দিনের উম্মাহর কান্ডারী। তাই তাদেরকে শুধু পরীক্ষার খাতায় নাম্বার পাওয়ার জন্য নয়, বরং বিশ্ব নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। তাদের হৃদয়ে তাকওয়া থাকতে হবে, চিন্তায় দূরদর্শিতা থাকতে হবে, হাতে দক্ষতা থাকতে হবে, আর চরিত্রে থাকতে হবে নববী আদর্শের সৌন্দর্য। আমরা এমন শিক্ষা চাই— যেখানে মসজিদের আলো ও প্রযুক্তির আলো একসাথে জ্বলে। যেখানে ল্যাবরেটরির গবেষণা আল্লাহর মহিমা চিনতে শেখায়। যেখানে কলম, কম্পিউটার ও কুরআন একসাথে মানবতার কল্যাণে কাজ করে। যেখানে ছাত্ররা শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং উম্মাহর রাহবার ও বিশ্বমানবতার পথপ্রদর্শক হয়ে গড়ে ওঠে। নিশ্চয়ই সেই দিন দূরে নয়, যেদিন নতুন প্রজন্ম আবারও ইসলামের সোনালি ইতিহাস ফিরিয়ে আনবে—ইলম, আমল, প্রযুক্তি ও নৈতিকতার সমন্বয়ে। তারা বিশ্বকে দেখিয়ে দেবে, ইসলাম পিছিয়ে পড়ার নাম নয়; বরং সত্য, জ্ঞান, সভ্যতা ও মানবমুক্তির সর্বশ্রেষ্ঠ দিশা। আল্লাহ তাআলা আমাদের তরুণদেরকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান, আধুনিক দক্ষতা, বিশুদ্ধ চরিত্র ও বিশ্বনেতৃত্বের যোগ্যতা দান করুন। আমীন। মুফতী আহমাদ মুস্তাকীম জিম্মাদার, তালিমাত বিভাগ